Saturday, October 23, 2021

একটি " জগন্নাথপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশন"

জগন্নাথপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সেবা প্রতিষ্টান। উক্ত গ্রামের হতদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা সহ বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম প্রদান করে থাকে। এছাড়া উক্ত গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড করে থাকেন। এবছর শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২১ইং উপলক্ষ্যে জগন্নাথপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মৃগা ইউনিয়ন ও ধনপুর ইউনিয়নের কয়েকজন সম্মানিত ব্যাক্তিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো। ১) জনাব কামরুল হাসান দুলাল চেয়ারম্যান, ৩নং মৃগা ইউপি ও সভাপতি, ৩নং মৃগা আওয়ামীলীগ। ২) জনাব দারুল ইসলাম সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইটনা উপজেলা ৩) জনাব ছিদ্দিকুর রহমান সাবেক চেয়ারম্যান, ৩নং মৃগা ইউপি সহ-সভাপতি, ইটনা উপজেলা আওয়ামীলীগ। ৪) জনাব অ্যাড. ফরিদউদ্দিন আহমেদ এপিপি,নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাই. সাবেক এজিএস, কিশোরগঞ্জ আইনজীবি সমিতি ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজ। ৫) জনাব মিজানুর রহমান ভূট্টু সাধারণ সম্পাদক,মৃগা ইউপি আওয়ামী ৬) জনাব মাহফুজ মিয়া সহকারি শিক্ষা অফিসার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা। ৭) জনাব আলমগীর ফরিদ দপ্তর সম্পাদক, ইটনা উপজেলা ছাত্রলীগ ৮) বাবু কামদেব দাস দেবু সিনিয়র অফিস এক্সিকিউটিভ আল-ফাতিন ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ৯) বাবু দিলীপ দাস বিপি, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ডিএমপি ঢাকা। বিএসএস, এমএসএস গুরুদয়াল সরকারি কলেজ। কিশোরগঞ্জ ১০) বাবু নারায়ণ চন্দ্র সরকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১১) বাবু সাধন চন্দ্র দাস সাবেক সভাপতি, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১২) বাবু রথীন্দ্র চন্দ্র দাস সভাপতি, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

Thursday, July 8, 2021

একটি মায়ের গল্প - পিকেডি

সভ্যতা !! পৃথিবীতে যত মহৎ সভ্যতার জন্ম দিয়েছেন তিনি আর কেউ নয় সে হলো আমাদের মা। মা শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব সুখের কথা। চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীতে বাবা মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোন কিছুর তুলনা চলে না। মা মানে সততা, মা মানে নিশ্চয়তা, মা মানে নিরাপত্তা, মা মানে অস্তিত্ব, মা মানে পরম আশ্রয়। মা মমতাময়ী, চির সুন্দর, চির শাশ্বত। মা সন্তানের শিক্ষক, প্রশিক্ষক এবং বিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা। জন্মের পর প্রথম আমরা কেউ আকাশ দেখিনি, মাকেই দেখেছি। মা উচ্চারণের সাথে সাথেই সন্তানের মনের ভিতর এক অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়। লুসিয়া মে অরকুটের বলেন, "" মা সবকিছু ক্ষমা করে দেন পৃথিবীর সবাই ছেড়ে গেলেও মা কখনো সন্তানকে ছেড়ে যান না"" । মেধা, শ্রম ও মমতা দিয়ে সন্তানদের বড় করে তোলার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মায়ের। যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে দিনের-পর-দিন প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিয়ে রাতের পর রাত বিনা নিদ্রায় সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করে তোলেন। সেই মাকে বিনা যত্নে অনাদরে অবহেলায় অসহ্য যন্ত্রণায় মেরে ফেলার একটি উপাখ্যান লিখছি,

গ্রামের নাম মধুপুর। সেই গ্রামে এক গরীব স্বামী-স্ত্রী বাস করতেন। তাদের একটি মাত্র পুত্র সন্তান ছিল তার নাম সবুজ। আর কোন সন্তান ছিল না তাদের। সে গরিব বাবা মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। বাবা ছিল একজন কৃষক ও মা একজন গৃহিনী। তাদের পড়াশোনা নেই বললেই চলে। তারা তাদের সন্তানকে খুব ভালোবাসতো সন্তানও তাদেরকে খুব ভালোবাসতো। এভাবেই তাদের জীবন আনন্দে ভরপুর। বাবা মা ও সন্তানের এতো ভালোবাসা হয়তো আগে কখনো দেখিনি আমি। যাইহোক, ছেলেটি গ্রামের কাছের একটি শহর থেকে বিএ পাস করে। গ্রাম থেকে বিএ পাস করা মানে একটা হৈ রৈ ব্যাপার আছে। তার বাবা-মার ইচ্ছা এবার ছেলেকে একটি ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করাবে। পাশের গ্রামের শ্যাম কুমার বাবু দীর্ঘদিন যাবত শহরে থাকেন। ঘটকের মাধ্যমে জানতে পারা গেল তার ছোট মেয়েটা বিয়ের বাকী। শহরে পড়াশোনা করে চরিত্র কেমন তা জানা মুশকিল। শহরের কালচার একটু ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। ছোট মেয়েটা বেশ সুন্দরী গুণবতী। নাম তার অনন্যা শহরের নামী দামী কলেজে পড়াশোনা করছে। গ্রামের ছেলেকে বিয়ে করতে সে মোটেও রাজি ছিল না। শহরে থাকলেও শ্যামকুমার বাবুর অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। গ্রামের বাড়িতে বেশ নাম ডাক আছে। একটা কথা বলে রাখি আপনার সন্তান কে যদি বিয়ে করাতে চান তাহলে আপনার সন্তানের থেকে সর্বদিক দিয়ে নিন্ম ধরনের মেয়ের সাথে বিয়ে দিবেন। অর্থাৎ রূপ,গুণ,বংশ,বর্ণ, গোত্র, শিক্ষা এসব ইত্যাদি। এতে সবারই মঙ্গল হবে। যাইহোক, প্রথমদিকে কন্যার বিয়ে দিতে রাজি না হলেও পরে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তার সুশ্রী গুণবতী মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হলেন। ধুমধাম করে বিয়ের কাজ শেষ হলো। প্রথমদিকে তাদের সংসার ভালই কাটছিল ছেলে আর তার বউ তার বাবা মায়ের সাথেই থাকতো। শীঘ্রই ছেলের বউ গ্রাম্য পরিবেশে হাপিয়ে উঠে আর তার স্বামীকে তার বাবা-মাকে ছেড়ে শহরে থাকতে বলে। শহরে বড় হয়েছে যে মেয়ে তার কি গ্রাম্য পরিবেশ ভালো লাগে !! তার মাঝে আবার সুন্দরী সুশ্রী। সবুজ কিছুতেই তার বউয়ের কথায় রাজি হলেন না। এ নিয়ে তার বউয়ের সাথে মনোমালিন্য চলছে। সবুজ বলল যে বাবা-মা আমাকে সারাজীবন এত কষ্ট করে মানুষ করেছে তাদের রেখে আমি যেতে পারব না। কিছুদিন পরে সবুজ পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। সে আবেদন করার পর  সেই চাকুরিটা পেয়ে যায়। চাকরির সুবাদে সে শহরে চলে যায়। পরে সে সুযোগ সুবিধা করে তার বাবা-মা সহ বউকে শহরে নিয়ে যায়। কিন্তু তার বউ তার বাবা-মাকে কিছুতেই দেখতে পারতো না, ঠিকমতো খাবার দেয় না শুধু ঝগড়া করে। এমনিতেও গ্রামে থেকে অভ্যাস শহরে ভালো লাগে না। তার মাঝে এসব বিষয় শুনতে শুনতে তার বাবা-মার শহরে ভালো লাগলো না। তারা সিদ্ধান্ত নিলো গ্রামের বাড়িতে চলে যাবে। বাবা-মায়ের এমন নিঃসঙ্গ জীবন দেখে ছেলেও রাজি হন বাবা-মাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন। নিয়মিত সে মা-বাবাকে টাকা পাঠাতে থাকে। বউয়ের নানা ধরনের অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলছে। বাবা মাকে টাকা পাঠানো নিয়ে বউ প্রতিদিন সবুজের সাথে ঝগড়া করে। বউয়ের এমন ব্যবহার আর অমানবিক অত্যাচার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সবুজ। প্রতিদিন ঝগড়াঝাটিতে হাপিয়ে উঠছিলেন। অন্যদিকে তার বউয়ের বাপের বাড়িতেও সমস্যা। অনন্যার ভাইয়ের বউ তার বাপ মাকে কিছুতেই সহ্য করতে পারেনা। এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের পায়চারি। যে অন্যের বাবা-মাকে সহ্য করতে পারেনা তার বাবা-মাকে অন্য কেউ সহ্য করবে কিভাবে। এটাই হয়তো বিধাতার খেলা। পরদিন রাতে তার স্বামীকে বলে আমার বাবা-মার দুর্দিনে বাবা-মাকে আমার কাছে রাখতে চাই। কাল আমার বাবা-মাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসব। সবুজ কিছুই বলল না আর বলেও কোনো লাভ নেই। মনে মনে ভাবছে যেখানে আমার বাবা মা থাকার কথা সেখানে,,,,,,। যেই কথা সেই কাজ তার বাবা-মাকে নিয়ে আসলো। এদিকে স্বামীর বাবা মার কি হলো সেদিকে লক্ষ্য নাই। এভাবে চলতে থাকলো তাদের সংসার। মাঝে মাঝে সবুজ তার বাবা-মার সাথে ফোনে কথা বলে আর কিছু টাকা পাঠায়। তার বাবা-মা তার মনের অবস্থা বুঝতে পারে এজন্য তাকে কিছু বলে না। এক পর্যায়ে তার বাবা মা বলল আমাদের টাকা পাঠাতে হবে না খোকা যা আছে তাতেই চলবে। তোমরা ভালো থেকো । এক সময় এভাবে আস্তে আস্তে টাকা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায় তার সাথে যোগাযোগও। সময়ের ব্যবধানে মানুষ পাল্টে যায়। এভাবেই সবুজ ও তার বাবা-মার মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। তার মা বাবা যে জীবিত সে কথা ভুলেই যায়। প্রতি বছর সে দূর্গা পূজা করে থাকে। একবার দূর্গা পূজার পর সে স্বপ্নে দেখলো, কে যেন তাকে বলছে , ‘তোমার পূজা করা হয় নি।একদিন সে তার এই সব ঘটনা এক পুরোহিতের নিকট খুলে বলল। ‘পুরোহিত তাকে তার গ্রামে ফিরে গিয়ে মা-বাবার সাথে দেখা করতে পরামর্শ দেয়।সে তার গ্রামে ফিরে গেল, সে তার গ্রামের সীমানায় প্রবেশ করল। কিন্তু সে দেখল, সব কিছুই কেমন যেন বদলে গেছে। সে তার বাড়ি খুজে পেল না। সে এক ছোট ছেলেকে তার বাড়ির অবস্থানের কিছু বর্ণনা দিল। ছোট ছেলেটি তাকে একটি বাড়ির দিকে ইশারা করে বললঃ “এই বাড়িতে এক অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা থাকেন যার স্বামী কয়েক মাস আগেই মারা যান। তার একমাত্র ছেলে ছিল যে কিনা বহু বছর আগে শহরে চলে গেছে, আর ফেরেনি। কত বড় দূর্ভাগ্যবান লোক!” ছেলে তার বাড়িতে প্রবেশ করে দেখল যে তার মা বিছানায় শুয়ে আছেন। সে নিঃশব্দে প্রবেশ করল যাতে তার মা জেগে না ওঠে। সে শুনলো তার মা কি যেন একা একা চুপি চুপি বলছেন। সে তার আরো কাছে আসলো যাতে তার মায়ের কথা শুনতে পারে। সে শুনলো তার মা বলছেন, “হে ভগবান! আমি এখন অনেক বৃদ্ধ আর অন্ধ। আমার স্বামী ও মারা গেছেন। এখন আমাকে শশ্মানে নামানোর মত কোন পুরুষ নেই। তাই দয়া করে আমার ছেলেকে আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণের জন্য আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।” এ কথা শুনতে পেয়ে সবুজ চিৎকার করে বললো, "মা, মাগো আমায় ক্ষমা করে দাও!! আমার ভীষণ ভুল হয়ে গেছে মা , আমার ভীষণ ভুল হয়ে গেছে। মায়ের এমন অবস্থা দেখে সবুজ স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। যে বাবা-মা তাকে এতোটা ভালোবাসতো এতটা স্নেহ করতো। যে বাবা-মার প্রতি এতোটা ভালোবাসা ছিল। সেই মা আজ না খেয়ে দিনের পর দিন সন্তানের মঙ্গল কামনা করে তার জন্য অপেক্ষা করছে। কখন তার সন্তানকে দেখতে পাবে। হায় ভগবান!! কি দৃশ্য দেখালে আমায় । আমাকে মৃত্যু দাও খোদা!! সবুজ আস্তে আস্তে ভিড় ভিড় করে কি যেন বলছে, যে মা না খেয়ে আমাকে খাইয়েছে, সারারাত না ঘুমিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়েছে, আমি অসুস্থ হলে আমার জন্য পাগল হয়ে যেত। সেই মা আজ দিনের পর দিন অনাদরে-অবহেলায় মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে শুধু আমাকে একটা বার দেখার জন্য। হায় খোদা !!তুমি আমায় কেমন পরীক্ষায় ফেললে। সন্তানকে জড়িয়ে ধরে তার মা ধীরে ধীরে বলছে, কেমন আছিস খোকা,,? তোর শরীর ভালো আছে তো। আমাকে নিয়ে চিন্তা করিস না খোকা আমি ভালো আছি। শুধু তোকে একটা বার দেখার ইচ্ছা ছিল কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেটাও হলো না আমি এখন অন্ধ। তোকে একটা বার মন ভরে দেখার খুব ইচ্ছা ছিল রে খোকা। কিন্তু আমার সময় শেষ আর হয়তো দেখা হবে না কোনোদিন। খুব ভালো থাকিস খোকা, খুব ভালো থাকিস। আমি মরে গেলে তোর বাবার পাশে আমার খবরটা দিস। এই বলে তার মা নীরব আর কথা বলেনি। চলে গেলেন এতক্ষণে সবুজ স্তব্ধ হয়ে গেছেন। চরম দুর্দিনে যে সন্তানকে পাশে পাবে বলে এতো আদর যত্ন করে মানুষ করেছে। সেই সন্তানকেই যখন পাশে পায়নি। তখন প্রতিটা বাবা মায়ের বুকের ভিতর যে ভয়ঙ্কর আর্তনাদ এটা ভীষন পাপ । প্রতিবেশীরা তার মার লাশ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে তার বাবার কবরের পাশে কবর দিল। তার মায়ের শেষ বিদায়টা সহ্য করতে না পেরে সবুজ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। এভাবেই বাবা-মার কবরের পাশে রাতের পর রাত কাটতে লাগলো। তার বউয়ের আর খোঁজ মেলে নি। হয়তো অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে। যে মা দশ মাস গর্ভে রেখে আমাদের লালন পালন করেছেন। আজ সেই মার এমন অবস্তার জন্য আমরাই তো দায়ী তাই নয় কী? একজন বাবা মা তার সন্তানকে কতটা ভালবাসেন!! যারা আমাদের জন্য প্রতিদিন লড়াই করেন, হাজারো ব্যথা সহ্য করেন শুধু আমাদের একটা সুন্দর জীবনের পথ করে দিতে।

মেয়েরা খুব অদ্ভুত টাইপের হয়বউ হয়ে স্বামীর সংসারে আসার পরে স্বামীকে তার পরিবার থেকে আলাদা করার জন্য যুদ্ধ করে। আবার সেই একই মেয়ে যখন মা হয়ে যায় অর্থাৎ বৃদ্ধ হয়ে যায় তারা তখন পরিবারের সাথে থাকার জন্য যুদ্ধ করে। অথচ তারা ভুলে যায় সেদিনের কথা আজকে কেন তারা মা হয়ে পরিবারের সাথে থাকতে পারছে না। কারণ সে ও তো একসময় তার স্বামীকে তার পরিবার থেকে আলাদা করে ফেলেছিল। তাহলে কি করে আজ এই বৃদ্ধ বয়সে সে পরিবারের সাথে থাকবে। যেমন কর্ম তেমন ফল কথাটা তো সত্যি। সুতরাং কোন কিছু করার আগে একবার নিজের অবস্থানটা বিচার করে দেখুন। আমরা কেউই চিরকাল থাকবো না সময়ের ব্যবধানে কাকে কোথায় দাঁড় হতে হয় আমরা কেউ জানিনা।

Sunday, August 2, 2020

রাজকুমারী খুশীর গল্প

পর্বঃ ০১

সময় তখন গোধূলী।। একটি বিয়ে বাড়ি সব রকম কার্য-বিধি চলছে। তবে বিয়ের আয়োজন সীমিত পরিসরে হলেও সেখানে বেশ কিছু দৃশ্যপট লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।দীপও সেখানে উপস্থিত ছিল। দীপ একটি ছেলের নাম। ছেলেটি অত্যান্ত প্রাচীন আধুনিকতার ছোঁয়া এখনো গাঁয়ে লাগেনি যদিও সে মোটামুটি গ্র্যাজুয়েট ছিল। যাইহোক, বিয়ের অধিকাংশ কার্য-পরিচালনা তার হাতেই যদিও নিবেদিত ছিল তাই কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছিল। বিয়ের প্রায় কিছু সময় বাকী।  আরেকটা কথা বলা হয়নি বিয়ের আয়োজনটা হচ্ছিল তিন তলা বাড়ির ছাঁদের উপর বেশ মনোরম পরিবেশ। কুঞ্জ সাঁজানোর দায়বাড় সম্পূর্ণ দীপের হাতে। পাত্র দেখতে বেশ সুন্দর। পাত্র-পাত্রী কুঞ্জে পৌছানোর পূর্বেই দর্শকের ভীড় এতোই প্রাণবন্ত ছিল যে সেটা দেখার মত। দীপ তখনও খুব ব্যস্ত একবার নিচে যাচ্ছে আবার উপরে আসছে। এরূপ অবস্থায় হঠাৎ দীপের দর্শনের পাতায় চোখ পড়ে এক কালো পোশাক পড়া অনন্য রমণি যা অন্য সবার চাইতে আলাদা। সেই অপরুপ নিষ্পাপ মুখখানি, যেন কোনো পাহাড়ি ঝর্ণা তার উপর হাজারো প্রজাপতি খেলা করছে তার সৌন্দর্য ঠিক ততখানিই স্নিগ্ধ। একদম সাদাসিধে চেহারা, যার মাঝে ভীষণ সরলতা প্রকাশ পায়। যেন বিধাতা পূর্বে এরুপ সৌন্দর্য দিয়ে কাউকে সৃষ্টি করেনি। দীপ এক মুহূর্তের মধ্যে থমকে গেল। আর মনে মনে ভাবছে কি দেখছি হঠাৎ আকাশ থেকে পরীটা কখন নেমে আসলো এই ধরায়। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হওয়ার পর তার মনে একটাই প্রশ্ন কে সেই পরী আমাকে জানতেই হবে। উপস্থিত যাকেই বলছে কেউ বলতে পারছেন না। এদিকে বিয়ে সমাপ্তি প্রায় সে তো চলে যাবে। কি করবে ভেবে পাচ্ছেন না দর্শক চলে যাচ্ছে তার সাথে সেই পরীটাও। ততক্ষণে দীপের আশার আলো নিভে যাচ্ছিল। সিঁড়ি বেঁয়ে যখন নিচের দিকে চলে যাচ্ছিল দীপ তখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না,,,,,,,,,,,


          

Sunday, March 11, 2018

দেখতে চাই


“দেখতে চাই”
—মহাদেব সাহা

আমাকে দেখাও তুমি দূরের আকাশ ওই
দূরের পৃথিবী
আমি তো দেখতে চাই কাছের
জীবন,
তুমি আমাকে দেখাতে চাও দূর
নীহারিকা,
সমুদ্র- সৈকত
দিগন্তরেখা,দূরের পাহাড়;
তুমি চাও আরো দূরে, দূর দেশে
আমাকে দেখাতে কোন রম্য দ্বিপ,
স্নিগ্ধ জলাশয়,
আমি চাই দেখতে কেবল
চেনা সরোবর,কাছের নদীটি!
আমাকে দেখাতে চাও বিশাল জগত,
নিয়ে যেতে চাও অনন্তের কাছে,
আমার দৃষ্টি খুবই সীমাবদ্ধ—
অতো দূরে যায় না আমার
চোখ;
কেবল দেখতে চাই জীবনের
কাছাকাছি যেসব অঞ্চল,
দূরের নক্ষত্র থাক তুমি এই নিকটের
মানচিত্র আমাকে দেখাও,
দেখাও নদীর কূল,চালের কুমড়ো
লতা,বাড়ির উঠোন
দূরের রহস্য নয়,কেবল বুঝতে চাই
তোমার হৃদয়……….

দেখতে চাই


“দেখতে চাই”
—মহাদেব সাহা

আমাকে দেখাও তুমি দূরের আকাশ ওই
দূরের পৃথিবী
আমি তো দেখতে চাই কাছের
জীবন,
তুমি আমাকে দেখাতে চাও দূর
নীহারিকা,
সমুদ্র- সৈকত
দিগন্তরেখা,দূরের পাহাড়;
তুমি চাও আরো দূরে, দূর দেশে
আমাকে দেখাতে কোন রম্য দ্বিপ,
স্নিগ্ধ জলাশয়,
আমি চাই দেখতে কেবল
চেনা সরোবর,কাছের নদীটি!
আমাকে দেখাতে চাও বিশাল জগত,
নিয়ে যেতে চাও অনন্তের কাছে,
আমার দৃষ্টি খুবই সীমাবদ্ধ—
অতো দূরে যায় না আমার
চোখ;
কেবল দেখতে চাই জীবনের
কাছাকাছি যেসব অঞ্চল,
দূরের নক্ষত্র থাক তুমি এই নিকটের
মানচিত্র আমাকে দেখাও,
দেখাও নদীর কূল,চালের কুমড়ো
লতা,বাড়ির উঠোন
দূরের রহস্য নয়,কেবল বুঝতে চাই
তোমার হৃদয়……….

মিথিলার চিঠি- মেহেদি পাতা

অনন্ত,
মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই।
ওপরে সবুজ,
ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-
বিক্ষত।
নিজেকে আজকাল বড়
বেশী মেহেদী পাতার
মতো মনে হয় কেন?
ওপরে আমি অথচ
ভেতরে কষ্টের
যন্ত্রণার এমন সব বড়
বড় গর্ত যে,তার
সামনে দাঁড়াতে নিজেরই
ভয় হয় অনন্ত।
তুমি কেমন আছো?
বিরক্ত হচ্ছো না তো?
ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও
করে তুলতে পারে সেদিন
তোমায় দেখার আগ
পর্যন্ত আমার
জানা ছিলো না।
তোমার উদ্দাম
ভালোবাসার
দ্যুতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছার-
খার
করে ফেলেছে আমার
ভেতর আমার বাহির।
আমারই
হাতে গড়া আমার
পৃথিবী।
অনন্ত,
যে মিথিলা সুখী হবে বলে ভালোবাসার
পূর্ণ চন্দ্র
গিলে খেয়ে ভেজা মেঘের
মতো উড়তে উড়তে চলে গেলো
আজন্ম
শূণ্য
অনন্তকে আরো শূণ্য
করে দিয়ে তার
মুখে এসবকথা মানায়
না আমি জানি।
কিন্তু আমি আর
এভাবে এমন
করে পারছিনা।
আমার চারদিকের
দেয়াল জুড়ে থই থই
করে আমার স্বপ্ন
খুনের রক্ত। উদাস
দুপুরে বাতাসে শীষ
দেয় তোমার সেই
ভালোবাসা,
পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার
মতন তোমারই স্মৃতি,
আমি আগলাতেও
পারি না,
আমি ফেলতেও
পারি না।
সুখী হতে চেয়ে এখন
দেখি দাঁড়িয়ে আছি একলা আমি;
কষ্টের তুষার
পাহাড়ে।
অনন্ত, তোমার
সামনে দাড়ানোর
কোন যোগ্যতাই আজ
আমার অবশিষ্ট নেই,
তবুও . . . তবুও তুমিই
একদিন বলেছিলে,
“ভেজা মেঘের
মতো অবুঝ
আকাশে উড়তে উড়তে জীবনের
সুতোয় যদি টান
পড়ে কখনো,
চলে এসো . . . চলে এসো,
বুক পেতে দেবো, আকাশ
বানাবো আর
হাসনাহেনা ফোটাবো”।
সুতোয় আমার টান
পড়েছে অনন্ত, তাই আজ
আমার সবকিছু, আমার
একরোখা জেদ,
তুমিহীন সুখী হওয়ার
অলীক স্বপ্ন, সব . . .
সবকিছু
জলাঞ্জলি দিয়ে তোমার
সামনে আমি নতজানু।
আমায় তোমাকে আর
একবার ভিক্ষে দাও।
কথা দিচ্ছি তোমার
অমর্যাদাহবে না কোনদিন।
অনন্ত, আমি জানি,
এখন
তুমি একলা পাষাণ
কষ্ট
নিয়ে ঘুরে বেড়াও।
প্রচন্ড এক
অভিমানেক্ষণে ক্ষণে গর্জে ওঠে
অগ্নিগিরি।
কেউ জানে না,
আমি জানি। কেন
তোমার মনের
মাঝে মন থাকে না।
ঘরের মাঝে ঘর
থাকে না। উঠোন
জোড়া রূপোর কলস,
তুলসী তলেরঝরা পাতা,
কুয়োতলার শূণ্য
বালতি;বাসন-কোসন,
পূর্ণিমা আর
অমাবস্যা,
একলা ঘরে এই অনন্ত,
একা একা শুয়ে থাকা,
কেউ জানে না,
আমি জানি।
কেন তুমি এমন
করে কষ্ট পেলে? সব
হারিয়ে বুকের তলের
চিতানলে, কেন
তুমি নষ্ট হলে?
কারবিহনে চুপি চুপি ধীরে ধীরে,
কেউ
জানে না আমি জানি,
আমিই জানি।
আগামী শনিবার
ভোরের
ট্রেনে তোমার
কাছে আসছি। অনন্ত,
আমায় আরকিছু না দাও,
অন্তত শাস্তিটুকু
দিও। ভালো থেকো।
তোমারই
হারিয়ে যাওয়া,
মিথিলা

Thursday, December 28, 2017

জগন্নাথপুর সার্বজনীন দূর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে পুরস্কার বিতরণী।

জগন্নাথপুর সার্বজনীন দূর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে পুরস্কার বিতরণী । এই অনুষ্টানের আয়োজন করেছেন  জগন্নাথপুরের তরুণ প্রজন্ম। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাবু কামাখ্যাচরণ সরকার এবং মিহির চক্রবর্তী। 

Sunday, October 29, 2017

চাকরীর আবেদন করার নিয়ম(নকল)- পল্টু কুমার দাস

বরাবর
প্রকল্প পরিচালক
সেকেন্ডারি এডুকেশন সেকটর
ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
আব্দুল গনি রোড, ঢাকা-১০০০।
বিষয়ঃ ‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে নিয়োগের
জন্য আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ০৫/০৮/২০১৫
তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম, আপনার
অধীনে ‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে কিছু সংখ্যক
লোক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদে
নিয়োগ লাভে একজন আগ্রহী প্রার্থী
হিসেবে মহোদয়ের সদয় বিবেচনার জন্য
নিচে আমার যাবতীয় তথ্য সন্নিবেশ করলামঃ
নাম : পল্টু কুমার দাস
পিতার নাম : জহর লাল দাস
মাতার নাম : প্রিয়লতা দাস
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রামঃ জগন্নাথপুর, ডাকঘর-
মৃগা
উপজেলা- ইটনা,
জেলা- কিশোরগঞ্জ।
বর্তমান ঠিকানা  : গ্রাম- জগন্নাথপুর, ডাকঘর- মৃগা
উপজেলা- ইটনা,
জেলা- কিশোরগঞ্জ।
জন্ম তারিখ : ২১/০৮/১৯৯৪খ্রি.।
জাতীয়তা : বাংলাদেশী
ধর্ম :  হিন্দু
শিক্ষাগত যোগ্যতা :
পরীক্ষার নাম শাখা/বিষয় পাশের
সন ফলাফল বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়
এস.এস.সি মানবিক ২০১১        জিপিএ
৩.৫০ ঢাকা
এইচ.এস.সি মানবিক ২০১৩ জিপিএ
৩.৩০ সিলেট।
অতএব, মহোদয় সমীপে বিনীত প্রার্থনা,
উল্লিখিত তথ্য সুবিবেচনাক্রমে আমাকে
‘সহকারী পরিদর্শক’ পদে নিয়োগ দান করে
আমার শ্রম ও মেধা প্রয়োগের মাধ্যমে চাকরি
করার সুযোগ দানে মর্জি হয়।
নিবেদক
(পল্টু কুমার দাস)
সংযুক্তিঃ
১। ছবি ২ কপি।
২।একডেমিক সকল সনদপত্রের সত্যায়ি কপি।
৩। চারিত্রিক সনদপত্র।
৪। নাগরিকত্ব সনদপত্র।
৫। ২০০ টাকার পোস্টাল অর্ডার নং- ..............
আশা করি সকলের কাজে লাগবে।ধন্যবাদ

Sunday, September 24, 2017

পাছে লোকে কিছু বলে - কামিনী রায়

কবি কামিনী রায় লিখেছিলেন - “করিতে পারি না কাজ, সদা ভয়, সদা লাজ, সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে/ আড়ালে আড়ালে থাকি, নীরবে আপনা ঢাকি সম্মুখ চরণ নাহি চলে, পাছে লোকে কিছু বলে/ হৃদয়ে বুদবুদ-মত উঠে চিন্তা কত মিশে যায় হৃদয়ের তলে, পাছে লোকে কিছু বলে/ কাঁদে প্রাণ যবে, আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখি নির্মল নয়নের জলে, পাছে লোকে কিছু বলে/ মহৎ উদ্দেশে যবে একসাথে মিলে সবে, পারি না মিলিতে সেই দলে/ বিধাতা দিয়েছেন প্রাণ, থাকি সদা ম্রিয়মান, শক্তি মরে ভীতির কবলে, পাছে লোকে কিছু বলে।” পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যার মধ্যে মঙ্গল চিন্তার উদয় হয় না। কিন্তু মঙ্গল চিন্তাকে মানুষ কর্মের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করতে পারেনা লোকভয়ে। ফলে ব্যক্তিত্ব যেমন বিকশিত হয় না তেমনি সমাজও বঞ্চিত হয় কল্যাণকর উদ্যোগ থেকে।“পাছে লোকে কিছু বলে” - এক আত্মঘাতী মনোভাব। এই আত্মঘাত থেকে মুক্তির একটাই উপায় অন্য কারো দোষ ত্রুটির দিকে দৃষ্টি না দেয়া। মানুষ বড়ই অদ্ভুদ আচরণ করে। সে কখনও তার প্রিয় বন্ধুর সামনা সামনি সমালোচনা করে না। অথচ প্রিয় বন্ধুর আড়ালে তার দোষের কথা বলতে বাধে না। কিন্তু বন্ধুর প্রতি একটু ভালবাসা থাকলে ভালবাসার দাবী হলো, যাকে ভালবাসি তাকে সংশোধনে সহযোগীতা করা। কোমলতা ও প্রেমের সাথে এমনভাবে তার দোষগুলো দেখিয়ে দেয়া যেন সে সংশোধনের সুযোগ পায়। বন্ধু কখনও অন্যের কাছে বন্ধুর দোষ বলতে পারে না বা শুনতে পারে না।এই কাজটা ভালো ঐ কাজটা মন্দ এটা নির্ধারণ করে কে? এই কাজটি করা উচিত ঐ কাজটি করা উচিত নয় কে এই রায় দেয়? উচিত হলে কাজটি করা যাবে অনুচিত হলে করা যাবে না এমন বাধ্যবাধকতা কে আরোপ করে? ভালো-মন্দ নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে অনাদি কাল থেকে। ভাল-মন্দ কাকে বলে? কীভাবে আমরা বুঝি কোন্ কাজটি ভাল আর কোন্ কাজটি মন্দ?পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ আমাদের মধ্যে ভালো মন্দের একটি চিত্র তৈরি করে। মনস্তাত্বিকভাবেআমরা সেই চিত্রের মতো হতে চাই। কিন্তু পারি না। আমাদের দৃষ্টিতে মন্দকর্মগুলোকে আমরা ভুল, খারাপ, পাপ ইত্যাদি নানা নামে ডাকি। আমাদের দৃষ্টিতে যা ভালো তা না করে যখন নিজেরাই মন্দ কিছু করে ফেলি তখন সৃষ্টি হয় আত্মগ্লানি ও হতাশার।আমার বিবেক যা করার জন্য সায় দিয়েছে আমি তা করেছি, যা বলার ছিল, বলেছি। যা কিছু আমরা অতীতে করেছি তার কোনকিছুকে পরিবর্তন করার সাধ্য আমাদের নেই। যা করেছি করেছি, এজন্য দুঃখ কিংবা অনুতাপ করে নিজের ক্ষতি ব্যতীত লাভ কিছু হয় না। তবুও ভলো-মন্দের যুদ্ধ থেকে আমাদের পরিত্রাণ নেই। নিজের ভিতরে ভালো-মন্দের যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। আমার কাছে যা ভালো তা আমার দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমার কাছে যা মন্দ তা আমার মানসিক ও দৈহিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবু আমি লোকের অনুমোদন চাই। মানুষের কাছ থেকে আমার কৃত কর্মের অনুমোদন আশা করলে হতাশা তো আসবেই। শান্তি পেতে হলে এসব অমূলক আশা-হতাশা ত্যাগ করতেই তো হবে।কিছু মানুষ আছে যারা ভাল-মন্দ নির্ণয় করে শাস্ত্র থেকে। শাস্ত্রে লিখা আছে এই কাজটি মন্দ সুতরাং তা মন্দ এই হলো তাদের একমাত্র যুক্তি। অন্যদের মতে - মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা ততক্ষণ পর্যন্ত সমর্থিত যতক্ষণ পর্যন্ত তা অন্য মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়। কোন মানুষের কাজ সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হলেতাকে বাধা দেয়া যায় না। যে যা খুশি করতে পারে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অন্যের ক্ষতি না করে। অন্যের ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত সব কাজই ব্যক্তি ইচ্ছে করলে করতে পারে। আবার, কিছু মানুষের মানদন্ড হচ্ছে সমাজ। সমাজ যাকে ভাল বলে তাই ভালো আর সমাজ যাকে মন্দ বলে তাই মন্দ। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব তাই সমাজ রক্ষার স্বার্থেতাকে সামাজিক রীতি-নীতি মেনে চলতে হয়। তাই সমাজে চালুকৃত প্রথাই অনেকের কাছে ভালো-মন্দের মানদন্ড। সমাজেরকাছে কোন কাজ মন্দ বা অনুচিত বলে বিবেচিত হলে তা অনুচিত। অনেক সময় শাস্ত্রীয় রীতি-নীতিও সমাজের রীতি-নীতিহয়। যাই হোক সমাজের বেশিরভাগ মানুষ যা করছে আমাকেও তা-ই করতে হবে তা না হলেই ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ ভয় আমাকে তাড়া করে।এক একটা সমাজের রীতি-নীতি এক এক রকমের। এক সমাজের রীতি-নীতি অন্য সমাজে অচল। এক সমাজের মানদন্ডে অন্য সমাজকে বিচার করা যায় না। অতীতের মানদন্ড দিয়ে যেমন বর্তমানের বিচার করা যায় না তেমনি আরবের মানদন্ড দিয়ে বাংলাদেশের বিচার করা যায় না। এক সমাজের রীতি-নীতিকে অন্য সমাজের রীতি-নীতি থেকে ভালো বা মন্দ বলা যায় না।অনেকের মতে বিবেকই ভালো-মন্দ নির্ধারণের মানদন্ড। তাদের মতে মানুষের মধ্যে এমন একটি শক্তি আছে যা তাকে ভালো কাজ করতে বলে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে। এই শক্তিকে আমরা বলি বিবেক। কিন্তু নিজের মধ্যে অনুসন্ধান করলে উপলব্ধিতে আসে - বিবেকও গঠিত হয় শাস্ত্র পাঠ, শুনা কথা ও সামাজিক রীতি-নীতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়। বিবেক ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলার আগে তার মানদন্ড তৈরী করে। মানুষের বিবেক স্থান ও কাল ভেদে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। হঠাৎ করে একজন বাঙালি আমেরিকা গেলে তার বিবেকের কার্যকারীতাহারিয়ে ফেলে। কোন ব্যক্তি নিজের বিবেকের সিদ্ধান্ত অন্য কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সমাজের উপর চালিয়ে দিতে পারে না। এমন যুক্তি দিয়ে কেউ পার পেতে পারে না যে, আমার বিবেক বলেছে, তাই করেছি। নিজের বিবেকের সিদ্ধান্তঅনুযায়ী মানুষ অন্য ব্যক্তির কর্মের মূল্যায়ন করতে পারে না। দুই ব্যক্তির মধ্যে কোন বিষয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিহলে কার বিবেকের সিদ্ধান্ত সঠিক এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। আবার মানুষের বিবেকই অভ্যাসের বশবর্তীহয়ে মন্দকে ভালো এবং ভালোকে মন্দ হিসেবে গ্রহণ করে। বিবেকের আহ্বান শুনলে যদি নিজের কোন পার্থিব ক্ষতির কারণ হয় তাহলে মানুষ যুক্তি দিয়ে বিবেককেও প্রভাবিত করতে পারে। বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই বিবেকের নির্দেশে নিজের ক্ষতি করে অন্যের ভাল করে না। বাস্তবে মানুষ মন্দ কাজ থেকে যতটুকু বিরত থাকে তা আইনের ভয়ে। আর আইনেরসীমাবদ্ধতা হলো, আইন কেবল অন্য মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করলেই প্রয়োগ হতে পারে। নিজের সাথে নিজে মিথ্যাচার করলে, নিজের সাথে নিজে অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে, নিজের সম্পদ নিজে নষ্ট করলে আইন কিছু করতে পারে না। ভালো মানুষ তৈরি করা আইনের উদ্দেশ্য নয়। আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়াপর্যন্ত আইন কিছু করতে পারে না। আইন মানুষের ঘরে কিংবা নির্জনে পুলিশী পাহাড়া বসাতে পারে না। ভালো-মন্দ নির্ণয়ের এই জটিলতা থেকেই উপলব্ধিতে আসে একজন ভালো বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা।ভালোমন্দ নির্ণয় করতে হলে বন্ধুর প্রতি থাকতে হবে প্রেম, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও বিশ্বাস। বন্ধুর আদেশ, উপদেশ, নিষেধের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি এবং বিশ্বাসই পারে মানুষকে ভালো-মন্দের সঠিক নির্দেশনা দিতে। যে কর্মের মাধ্যমে বন্ধুর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় তা ভালো, যে কর্মের মাধ্যমে বন্ধু অসন্তুষ্ট হন তা মন্দ। বন্ধুত্বের অভিধানেএই হলো ভালো-মন্দের সংজ্ঞা।বন্ধুর কাছে মূল্যায়নের একমাত্র মানদন্ড হচ্ছেন বন্ধু। সারা পৃথিবী আমার বিরুদ্ধে চলে যাক্, সব মানুষ আমার সমালোচনা করুক তাতে কী!  বন্ধু সন্তুষ্ট হলে আমিও সন্তুষ্ট হবোো ।

সমাজে বন্ধুত্বের জয় হোক



Saturday, September 23, 2017

তেজ - দেবব্রত সিংহ

                                  তেজ
                          দেবব্রত সিংহ
মু জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি বটে।’কাগজওয়ালারা বইললেক,“উঁ অতটুকু বইললে হবেক কেনে?তুমি এবারকার মাধ্যমিকে পত্থম হইছ।তোমাকে বইলতে হবেক আরো কিছু।”পঞ্চায়েতের অনি বৌদি, পধান, উপপধান, এইমেলে, এম.পি-সব একেবারে হামলিয়ে পড়ল আমাদের মাটির কুঁইড়েঘরে।জামবনি ইস্কুলের হেডমাস্টারকোন বিহান বেলায় টিনের আগর খুইলে,হেইকে, ডেইকে, ঘুম ভাঙাই- খবরটা যখন পথম শুনালেকতখন মাকে জড়াই শুয়ে ছিলুম আমি।কুঁড়াঘরের ঘুটঘুইটা আঁধারে হেডমাস্টার মশাইরে দেইখেচোখ কচালে মায়ের পারা আমিও হাঁ – হয়ে ভাইবে ছিলেম।-একি স্বপন দেখছি নাকি-স্যার বইলল, এটা স্বপুন লয়, স্বপুন লয়, সত্যি বইটে।কথাটো শুইনে কেঁইনদে ভাসায়েছিলুম আমরা মা বিটি।আজ বাপ বেঁইচে থাইকলেআমি মানুষটাকে দেখাইতে পাইত্থম। দেখাইতে পাইতত্থেম বহুত কিছু-আমার বুকের ভিতরযে তেজালো সইনঝা বাতিটা জ্বালায়ে ছিল মানুষটা।সেই বাতিটা আজকে কেমন আমাদের কুঁইড়ে ঘরটাকে আলো কইরেছে।সেটো দেখাইতে পাইত্থম।আপনারা বইলছেন বটে“তুমাদের মতো মেইয়ারা যদি উঠে আসে তবে ভারতবর্ষ উঠে আসে।”কথাটা খুবই সত্যি, কিন্তুউঠে আসার রাস্তাটা যে এখোন তৈয়ার হয় নাই।খাড়া পাহাড়ে উঠা যে কি জিনিস।বহুত দম লাগে। বহুত ত্যাজ লাগে…আমি জামবনির কুঁইরি পাড়ার শিবু কুঁইরির বিটি সাঁঝলি।যখন থেকে হুঁশ হইছে তখন থেকে শুইনে আসছি“বিটি না মাটি’ঠাকুমা বইলথক্,পরের ঘরে হেঁইসেল ঠেইলবেক্ তার আবার লিখাপড়া’গাঁয়ের বাবুরা বইলথক্“দ্যাখ সাঁঝলি – মন খারাপ কইরলি তো হেইরে গেলি।শুন যে যা বইলছে বলুক্। সে সব কথা এক কানে সিধালেআর এক কানে বার কইরে দিবি।’তখ্যান বাবুপাড়ার দেঘইরা ঘরে কামিন খাইটতক মা।ক্ষয় রোগের তাড়সে-মায়ের গতরটা ভাঙে নাই অতোটা।মাঝে মইধ্যে জ্বরটর আইত বটে, জ্বর এলে মাচুপচাপ এঙনাতে তালাই পাইতে শুইয়ে থাইকতো।মনে আছে সে ছিল এক জাঁড় কালের সকাল।রোদ উঠেছিল ঝলমলানি ঝিঙা ফুলা রোদ।আমি সে রোদে পিঠ দিয়া গা দুলাই পড়ছিলামইতিহাস…কেলাস সেভেনের সামন্ত রাজাদের ইতিহাস।দে ঘরের গিন্নি লোক পাঠাইছিল বারকতক।মায়ের জ্বর সে তারা শুইনতে নাই চায়!আমাদের দিদি বুঢ়ি তখনো বাঁইচে।ছেঁড়া কম্বল মুড়হি দিয়ে বিড়ি ফুকছিল বুড়হি।শেষতক্ বুড়হি সেদিন পড়া থেকে উঠাইমায়ের কাইজ টুকুন কইরতে পাঠাই ছিল বাবু ঘরে।পুরানো ফটক ঘেরা উঠান-অতোবড়ো দরদালান- অতোবড়ো বারান্দা,সব ঝাঁট ফাট দিয়ে সাফ সুতরো করে আসছিলুম চইলে,দেঘইরে গিন্নি নাই ছাইড়ল্যাক, একগাদা এটাকাটা-জুঠা বাসনআমার সামনে আইনে ধইরে দিলেক। বইল্লুম“আমি তোমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবো,”বাবু গিন্নির সেকি রাগ’-“কি বইল্লি তুই যতবড়ো মু লয় তত বড়ো কথা? জানিস,তর মা, তর মায়ের মা, তার মায়ের মা সবাই এতক্কালআমাদের জুঠা বাসন ধুয়ে গুজারে গ্যালোআর তুই আমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবি!”বল্লুম “হ আমি তোমাদের জুঠা বাসন ধুইতে লাইরবো।তোমরা লোক দেখে লাওগা। আমি চইল্লোম”কথাটো বইলে গটগট গটগট কইরে বাবু গিন্নির মুখের সামনেআমি বেড়োই চইলে আইলম।”তা বাদে সে লিয়ে কি কাইন্ড। কি ঝাম্যালা।বেলা ডুবলে মাহাতোদের ধান কাট্টে বাপ ঘরে ফিরে আইলেদুপাতা লিখাপড়া করা লাত্নির ছোট মুখে বড়ো থুতির কথাসাতকাহন কইরে বইলেছিল বুড়হি দিদি।মা কুনো রা কাড়ে নাই।আঘর মাসের সইন্ ঝা বেলাই এঙ্গ্নাতে আগুন জ্বেইলেগা-হাত-পা সেঁকছিল মা।একমাথা ঝাঁকড়া চুল ঝাঁকানো বাপের পেটানো পাথরের মুখটাঝইলকে উঠেছিল আগুনের আঁচে।আমি বাপের অমুন চেহারা কুনোদিন দেখি লাই।বাপ সেদিন মা আর দিদি বুড়ির সমুখে আমাকে কাইছে ডেইকেমাথায় হাত বুলাই গম্ গইমা গলায় বইলেছিল –যা কইরেছিস্! বেশ্ কইরেছিস্।শুন্, তর মা, তর মায়ের মা, তার মায়ের মা- সবাই কইরেছে কামিনগিরি।বাবুঘরে গতর খাটাই খাইয়েছে। তাইতে হইছে টা কি।তাতে হইছে টা কি! ই-কথাটো মনে রাখবি সাঝ্লি,তুই কিন্তু কামিন হবার লাগে জম্মাস লাই।যত বড় লাট সাহেবই হোক কেনে কারু কাছে মাথা নোয়াইনিজের ত্যাজ বিকাবি লাই।এই ত্যাজ টুকুর ল্যাইগে লিখাপড়া শিখাচ্ছি তুকে।না হলে আমাদের মতো হা-ভাতা মানুষের ঘরে আর আছে টা কি?”আমি জামবনির কুইরি পাড়ার শিবু কুইরির বিটি সাঁঝলি,কবেকার সেই কেলাস সেভেনের কথা ভাবতে যায়েকাগজওয়ালা টিভিওয়ালাদের সামনে এখুন কি যে বলি…তালপাতার রদ দিয়ে ঘেরা গোবুর লতার এঙ্গনাতে লুকে এখন লুকাকার।তার মাঝে বাঁশি বাজাই, জিপগাড়িতে চেইপেআগুপিছু পুলিশ লিয়ে মন্ত্রী আইল্যাক ছুটে।‘কুথায় সাঁঝলি কুইরি কুথায়’, বইলতে বইলতেবন্দুকধারী পুলিশ লিয়ে সুজা আমাদের মাটির কুইড়ে ঘরে,হেডমাস্টার বইললে ‘পনাম কর, সাঁঝলি পনামকর’মন্ত্রী তখন পিঠ চাপড়াইল্যাক। পিঠ চাপরাই বইল্লেক,“তুমি কামিন খেইটে মাইধ্যমিকে পথম হইছ,তাই তুমারে দেইখতে আইলম্, সত্যিই বড় গরীব অবস্থা বটে।তুমাদের মতো মিয়ারা যাতে উঠে আসেতার লাগেই তো আমাদের পার্টি, তার লাগেই তো আমাদের সরকার।– এই লাও, দশ হাজার টাকার চেকটা এখুন লাও।শুন আমরা তুমাকে আরো ফুল দিব, সম্মর্ধ্বনা দিব,আরো দ্যাদার টাকা তুলে দিব।–এই টিবির লোক, কাগুজের লোক, কারা আছেন, ই-দিকে আসেন।“তক্ষুনি ছোট বড় কতরকমের সব ঝইলকে উঠল ক্যামেরা,ঝইলকে উঠল মন্ত্রীর মুখ। না না মন্ত্রী লয়, মন্ত্রী লয়,ঝইলকে উঠল আমার বাপের মুখ।গন্ গনা আগুনের পারা আগুন মানুষের মুখ।আমি তক্ষুনি বইলে উঠলম-“না না ই টাকা আমার নাই লাইগব্যাক। আর আপনারাযে আমায় ফুল দিব্যান, সম্মর্ধ্বনা দিব্যান বইলছেন তাও আমার নাই লাইগব্যাক।’মন্ত্রী তখন ঢোক গিলল্যাক।গাঁয়ের সেই দেঘইর্যা গিন্নির বড় ব্যাটা এখুন পাটির বড় ল্যাতা।ভিড় ঠেলে সে আইসে বইলল্যাক-“ ক্যানে, কি হইছেরে সাঁঝলি,তুই তো আমাদের বাড়ি কামিন ছিলি।বল তর কি কি লাইগব্যাক, বল, তর কি কি লাইগব্যাক খুলে বল খালি,”বইল্ লম –“ আমার পারা শয়ে শয়ে আর অনেক সাঁঝলি আছে।আর শিবু কুইরির বিটি আছে গাঁ গিরামে। তারা যদ্দিনঅন্ধকারে পইড়ে থাইকবেক তারা যদ্দিন লিখ-পড়ার লাগে কাঁইদে বুলব্যাক্।তদ্দিন কুনো বাবুর দয়া আমার নাই লাইগব্যাক্। শুইনছ্যান আপনারাতদ্দিন কুনো বাবুর দয়া আমার নাই লাইগ্ ব্যাক।“

একটি " জগন্নাথপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশন"

জগন্নাথপুর শিক্ষা ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সেবা প্রতিষ্টান। উক্ত গ্রামের হতদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও আর্...